মাসিকের ব্যথা কি স্বাভাবিক?

হালকা পেটব্যথা অনেক নারীর মাসিকের সময় হয়। কিন্তু যদি ব্যথা এত তীব্র হয় যে দৈনন্দিন কাজ করা যায় না, তাহলে সেটি চিকিৎসার বিষয়।

দুই ধরনের মাসিকের ব্যথা

প্রাথমিক ডিসমেনোরিয়া: কোনো রোগ ছাড়াই হরমোনের কারণে ব্যথা। সাধারণত কম বয়সে বেশি হয়।

মাধ্যমিক ডিসমেনোরিয়া: কোনো নির্দিষ্ট কারণ যেমন এন্ডোমেট্রিওসিস বা ফাইব্রয়েডের কারণে ব্যথা।

কারণ

  • এন্ডোমেট্রিওসিস — জরায়ুর বাইরে জরায়ুর আস্তরণের মতো টিস্যু জমে।
  • ফাইব্রয়েড।
  • জরায়ুর অস্বাভাবিক অবস্থান।
  • পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (PID)।

লক্ষণ

  • তলপেটে তীব্র খিঁচুনি ধরনের ব্যথা।
  • কোমর ও উরুতে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া।
  • বমি বমি ভাব বা মাথাব্যথা।
  • মল নরম হয়ে যাওয়া।

কী করবেন?

গরম সেঁক দিলে অনেক সময় আরাম পাওয়া যায়। হালকা ব্যায়াম ও যোগব্যায়ামও সাহায্য করে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক বেশিদিন খাবেন না।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

  • প্রতি মাসে তীব্র ব্যথা হলে।
  • ব্যথায় কাজ করা বা স্কুল/অফিস যাওয়া বন্ধ হয়ে গেলে।
  • ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকলে।
  • মাসিকের বাইরেও পেটব্যথা হলে।

চিকিৎসা

কারণ বের করে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এন্ডোমেট্রিওসিসের জন্য হরমোন থেরাপি বা ল্যাপারোস্কোপি দরকার হতে পারে।

মনে রাখবেন

তীব্র মাসিকের ব্যথাকে সহ্য করার বিষয় মনে করবেন না। এটি চিকিৎসাযোগ্য একটি সমস্যা।